পদার্থ কাকে বলে? মৌলিক ও গ্যাসীয় পদার্থ

পদার্থ কাকে বলে এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় যার ওজন আছে, যা জায়গা দখল করে এবং যা বল প্রয়োগে বাধা প্রদান করে, তাকেই পদার্থ বলা হয়। আমাদের চারপাশে আমরা যা কিছু দেখি—বই, খাতা, পানি, বাতাস, এমনকি আমাদের শরীর—সবই পদার্থ দিয়ে গঠিত।

পদার্থ কাকে বলে?

পদার্থ বলতে এমন সব কিছুকে বোঝায় যার ভর আছে এবং যা স্থান দখল করে। আমাদের চারপাশে যা কিছু দেখা যায়, স্পর্শ করা যায় বা অনুভব করা যায়—সবই পদার্থের অন্তর্ভুক্ত। যেমন: পানি, বায়ু, মাটি, লোহা, কাঠ। পদার্থের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ভর (mass) এবং আয়তন (volume) থাকা।

পদার্থের অবস্থা কয়টি?

সাধারণত তাপ ও চাপের ওপর ভিত্তি করে পদার্থকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

১, কঠিন: এদের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন আছে। কণাগুলো একে অপরের খুব কাছে থাকে। যেমন: পাথর, কাঠ, লোহা।

২, তরল: এদের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও নির্দিষ্ট আকার নেই। যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। যেমন: পানি, দুধ, তেল।

৩, বায়বীয় (গ্যাসীয়): এদের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই। এরা যে কোনো স্থানের পুরোটা দখল করে নেয়। যেমন: অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, জলীয় বাষ্প।

(উল্লেখ্য, উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থের চতুর্থ একটি অবস্থা দেখা যায় যাকে প্লাজমা বলা হয়।)

আরো পড়ুন – ওয়ালাইকুম আসসালাম ইংরেজি বানান ও অর্থ ব্যবহার, গুরুত্ব

মৌলিক পদার্থ কাকে বলে?

যে পদার্থকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো নতুন পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলা হয়।

সহজ কথায়, মৌলিক পদার্থ কেবল এক ধরনের পরমাণু দিয়েই গঠিত। প্রকৃতিতে এ পর্যন্ত ১১৮টি মৌলিক পদার্থ শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯৮টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এবং বাকিগুলো গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে।

মৌলিক পদার্থ কাকে বলে

গ্যাসীয় পদার্থ কাকে বলে?

যে পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকার বা আয়তন নেই এবং যা যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের পুরোটা দখল করে নেয়, তাকে গ্যাসীয় পদার্থ বা বায়বীয় পদার্থ বলা হয়।

গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো একে অপরের থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ইতস্তত ছোটাছুটি করে।

উপসংহার

পদার্থের অবিনশ্বরতা নীতি অনুযায়ী, পদার্থকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তন করা যায়। বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় পদার্থের এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা থেকে শুরু করে বিশাল মহাজাগতিক বস্তুর রহস্য উদঘাটনই হলো প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment