অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে পিরিয়ডের ব্যথা হলে কি বাচ্চা হয় না ? কিংবা মাসিকের ব্যথার সঙ্গে বন্ধ্যাত্বের কোনো সম্পর্ক আছে কি না। সাধারণ মাসিকের ব্যথা বা পিরিয়ডের ব্যথা থাকলেই যে একজন নারী গর্ভধারণ করতে পারবেন না, এমন ধারণা সঠিক নয়।
পিরিয়ডের ব্যথা হলে কি বাচ্চা হয় না ?
মাসিকের সময় জরায়ু সংকুচিত হওয়ার কারণে তলপেটে ব্যথা, কোমর ব্যথা বা উরুতে ব্যথা হতে পারে।
একে সাধারণত মাসিকের ব্যথা (dysmenorrhea) বলা হয়।
অনেক নারীরই এই ব্যথা হয় এবং তারা পরবর্তীতে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করতে পারেন।
তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক মাসিকের ব্যথা কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।
যেমন—এন্ডোমেট্রিওসিস, জরায়ুর ফাইব্রয়েড, পেলভিক ইনফেকশন বা অন্য কোনো গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যা।
বিশেষ করে এন্ডোমেট্রিওসিসের ক্ষেত্রে কিছু নারীর গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে।
কিন্তু শুধু ব্যথা আছে বলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে আপনার সন্তান হবে না।
আপনার ব্যথা যদি খুব বেশি হয়, প্রতি মাসে স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়, ব্যথার ওষুধেও কমে না, মাসিক খুব বেশি হয়, সহবাসের সময় ব্যথা হয়, মাসিকের মাঝখানে রক্তপাত হয় অথবা দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হয়—তাহলে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
প্রয়োজনে ডাক্তার পরীক্ষা বা আল্ট্রাসাউন্ড করে ব্যথার কারণ খুঁজে দেখতে পারেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মাসিক নিয়মিত হওয়া, ডিম্বস্ফোটন, জরায়ু ও ডিম্বনালির স্বাস্থ্য এবং পুরুষ সঙ্গীর শুক্রাণুর মান—সবকিছু মিলেই গর্ভধারণের সম্ভাবনা নির্ধারিত হয়।
তাই শুধু মাসিকের ব্যথার ওপর ভিত্তি করে সন্তান হবে কি না বলা যায় না।

আরো জানুন – অতিরিক্ত ঘামার কারণ কি
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, পিরিয়ডের ব্যথা হলে কি বাচ্চা হয় না এমন ধারণা সঠিক নয়।
সাধারণ মাসিকের ব্যথা থাকলেও অধিকাংশ নারী স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করতে পারেন।
তবে যদি পিরিয়ডের ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হয়, নিয়মিত দৈনন্দিন কাজে সমস্যা সৃষ্টি করে অথবা ব্যথার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তপাত, অনিয়মিত মাসিক বা সহবাসের সময় ব্যথার মতো উপসর্গ থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
কারণ কিছু ক্ষেত্রে এন্ডোমেট্রিওসিস বা অন্যান্য গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যা গর্ভধারণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই পিরিয়ডের ব্যথা ও বন্ধ্যাত্বকে একই বিষয় মনে না করে, ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এবং দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।